আন্তর্জাতিকশিল্প ও সাহিত্যসম্পাদকের মন্তব্য

দু-একটি কথা যা টিনটিন সম্পর্কে জানি না: একটি অসংলগ্ন কোলাজ

প্রিয়ক মিত্র

Happy Birthday Tintin !

In 2019, Tintin is younger than ever ! Discover or Rediscover his adventures through this video. #Tintinforever #HappyBirthday #Hergé

Posted by Tintin on Thursday, January 10, 2019

আমাদের ছোটবেলার দুজন ভিলেন ছিলেন জর্জ বুশ আর টনি ব্লেয়ার। সিপিএম-এর রাজ্য বলেই কোকোকোলা বয়কট করতে চেয়েছিল অনেকেই। পাড়ার অনিলদা, কফিহাউসের সুনীলকাকা, পার্টিঅফিসের সুভাষজ্যাঠা, লেখক, নাট্যকার সবাই বাগদাদে আমেরিকার নক্কারজনক ভূমিকাকে ধিক্কার জানাচ্ছিল। প্রথম বিশ্বের ফ্যালিক সিম্বল ভেদ করে ঢুকে গেল লাদেনের প্লেন, আমরা হাঁ করে দেখলাম আমাদের লুচি পাঁঠার মাংস-র প্লেটে এসে ধপাস করে পড়ল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুকরো। বাবা বলল, “যুদ্ধ হবে!”, ফুলমামা বলল, “এই লাগল বলে!”, নকাকা বলল, “লাগ লাগ নারদ নারদ!”
তখন থেকে আর কোকাকোলা খাইনা। আমেরিকা যুদ্ধ না করলেও গুরুজনরা কোকাকোলা খেতে বারণ করত, কারণ ওর মধ্যে সাপব্যাঙ নানাবিধ পোকামাকড় ইত্যাদি থাকে। তখন সার্কাসে বাঘ সিংহ খেলা দেখাত। কোকাকোলায় থাকত সাপব্যাঙ। আমিষ সময় ছিল বটে। এখন খাবারে থাকে সীসা।
যেসময় বাঘসিংহ খেলা দেখাত, আর শীত কাঁপাত অজন্তা সার্কাস, আফ্রিকান সার্কাস, রাশিয়ান সার্কাস, কোহিনুর সার্কাস। স্বল্পবসনা সুন্দরী আর সিংহী-শিশুকিশোরযুবকমাঝবয়সীদের জন্য এই ছিল প্যাকেজ। মহাজাতি সদনে তখন ম্যাজিক দেখাতেন পি সি সরকার। সেখানেও যখনতখন ভ্যানিশ হয়ে যেতেন অপ্সরাসম নারীরা। তবু সে বয়সে বাঘ, সিংহী আর ম্যাজিকের ভেতরের রোমাঞ্চই জরুরি ছিল বেশি।
পি সি সরকার সিনিয়র মারা গিয়েছিলেন রাজার মতন। জর্জ বুশ সিনিয়র কিন্তু হইচই ছাড়াই চলে গেলেন। দুনিয়ায় জুনিয়ররাও এখনো রয়েছেন, তবে এমনিই! সে আগ্রা সে দিল্লী ভাই, আছে পড়ে সেই বাদশা নাই।
প্রথম দেখা ফুটবলের ওয়ার্ল্ডকাপে খেলছে রবার্তো কার্লোস, রোনাল্ডিনহো, আদি রোনাল্ডো! পেলে মারাদোনা রূপকথা। ব্রেজিল বললে তখনও বুঝতাম ফুটবল আর ব্রেজিলের কালো বাঘ। সত্যজিৎ রায়ের অনুবাদে। তখন কুছ কুছ হোতা হ্যায় দেখে কেঁদেছিলাম।  সৌরভ শচীন দ্রাবিড়ের ইন্ডিয়া হেরেছে বলেও কেঁদেছিলাম। সেসব সময় ময়দানে বইমেলা হত। আর ফি বছর আনন্দ-র স্টল থেকে একপিস করে টিনটিন বাড়ি আসত। তখন টিনটিন-এর বাংলা কমিকস আকাশ ছোঁয়নি।
টেরোড্যাকটিল, পীপিলিকাভুক, জ্বালা ধরা টাইকুন বলে গাল পাড়া শিখলাম। চুলটা খানিক সোনালি করে যদি তোলা যেত ওইভাবে। টিনটিনের মতন নীল সোয়েটার ছিল একটা। সেটা পড়েই কাটাতুম গোটা শীত।
লাদেন ভিলেন হল না, ভিলেন হল জর্জ বুশ আর টনি ব্লেয়ার। সাদ্দাম হুসেনকেও তখন খারাপ লোক বলে মনে হয়নি। মূর্তিমান আতঙ্ক ওসামা বিন লাদেন পানু দেখতে দেখতে গুলি খেয়ে মরে গেলেন। টিনটিনের দাম বেড়ে গেল।
ছোটবেলায় প্লেনের আলো দেখলে মনে হত হয় ইউ এফ ও, নয় যুদ্ধবিমান। আবদুল্লার দেশেও যুদ্ধ হচ্ছিল, কারণ আবদুল্লা একটা যুদ্ধবিমানকে তিনবার পাক খেতে বলেছিল। তার সেই আবদার কেউ শুনল না কেন? ভারী অন্যায়! যুদ্ধ লেগে গেল।
আবদুল্লার তাতে কী যায় আসে? সে কুট্টুসকে উত্যক্ত করছে, আর ক্যাপ্টেনের মুখে জল ছেটাচ্ছে। ক্যাপ্টেন “ওরে অলম্বুষ” বলে তাড়া করলে ছুটে পালাচ্ছে।
টাপিওকা আলকাজার দুঃখ করে কেন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে টিনটিন যুদ্ধবন্দীকে মেরে ফেলতে চায়না! আচ্ছা আলকাজারের বিপ্লব তো সফল হল, কিন্তু আরামবায়াদের কী হল তারপর? কেউ জানে?
আমেরিকার কোনো এক শেরিফ মাতাল হয়ে পড়ে থাকে যেখানে, সেখানে শেরিফেরই টাঙানো নোটিস, মাতলামো করা যাবে না।
ফারাওয়ের চুরুট-এর চক্করে টিনটিন এদেশে ঘুরতে এসেছিল। কয়েকজন ধর্মের ষাঁড় তাড়া করল কুট্টুসকে, শিবের অবমাননার জন্য।
রাস্তাপপুলাস, জর্জ বুশ আর  টনি ব্লেয়ারের মতনই ভিলেন। তাকে কিনা এলিয়েনরা তুলে নিয়ে চলে গেল?
আবদুল্লার মতন অনেক বালক গাজা সিরিয়াতে যুদ্ধ দেখছে। জ্যান্ত যুদ্ধ। খেলনা যুদ্ধ নয়। আবদুল্লা কি জানে সেসব?
ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্টের বিপ্লবীদের আলকাজার চেনেন?
আমেরিকার ওই শেরিফ কি জানেন ট্রাম্প-বোলসোনারোর কথা?
যারা কুট্টুসকে তাড়া করল, তারা কি গোরক্ষকদের চেনে?
নন্দীগ্রাম। চোদ্দই মার্চ। তারপরে একটা বন্ধ ডাকা হয়েছে। গোটা শহর থমথমে। কয়েকজন কিশোর কী বুঝেছে কে জানে, একটা খেলনা পিস্তল, দেখতে একদম আসলের মতন, রেখে দিয়েছে ফাঁকা মাঝরাস্তায়। পুলিশ হেসেছে দেখে। এ দৃশ্য সত্তর একাত্তরে ভাবা যেত?
ওই কিশোরদের মতন ফেল মারা, মধ্যবিত্ত ভীরু প্রেমিক, যৌনচাপে জর্জরিত পাবলিকও জানত না টিনটিনের আদত বয়স কত?
হ্যাপি বার্থডে টিনটিন!
ছবি – ইন্টারনেট
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Bitnami